বারডেম হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম, ফোন নাম্বার, খরচ
বারডেম হাসপাতালের খরচ ও অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা
করা হবে। তাই আপনি যদি বারডেম হাসপাতাল সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো খুব অল্প
সময়ের মধ্যে জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আর অবশ্যই মনে
রাখবেন আলোচ্য বিষয়টি হচ্ছে বারডেম হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম সম্পর্কে।
উপাধি লাভ করেছে। তবে এই হাসপাতালে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি অন্যান্য রোগেরও
সুচিকিৎসা প্রদান করা হয়। সেজন্য আপনি আপনার নির্দিষ্ট রোগের জন্য যদি ডাক্তার
দেখাতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই জেনে রাখতে হবে বারডেম হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর
নিয়ম বা পদ্ধতি সম্পর্কে।
বারডেম হাসপাতাল কোথায়
Metabolic Disorders এটি হল বারডেম হাসপাতালের পূর্ণরূপ। বারডেম হাসপাতাল
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের শাহবাগে অবস্থিত। ডায়াবেটিসের রোগীদের
বিনামূল্যের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির উদ্যোগে
বেসরকারিভাবে ১৯৮০ সালে হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হয়। এই হাসপাতালে প্রতিষ্ঠাতার
নাম হচ্ছে অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
অবস্থিত। হাসপাতালটি তিনটি সেক্টরের বহুতল ভবন বিশিষ্ট। উত্তর পাশের ভবনটি ১৬তলা
বিশিষ্ট, দক্ষিণ পাশের ভবনটি ৮ তলা বিশিষ্ট এবং মাঝখানের ভবনটি ৫ তলা বিশিষ্ট।
অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন এটি একটি বড় এবং আধুনিক চিকিৎসালয়।
বারডেম হাসপাতালের সময়সূচি
সুচিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। যেহেতু এই হাসপাতালটি এতদুর এগিয়ে
এগিয়ে গেছে তাহলে অবশ্যই এর সময়সূচি কিংবা নিয়মানুবর্তিতা রয়েছে। আর আপনি যদি
এই হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে চান তাহলে নিচে আলোচিত বারডেম হাসপাতালে ডাক্তার
দেখানোর নিয়ম অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসারে ডাক্তার দেখাবেন।
এবং অন্যান্য রোগীদের জন্য দুপুর ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। আপনারা এই সময়সূচির
মধ্যে যেকোনো সময়ে ডাক্তার দেখাতে পারবেন কোন সমস্যা নেই। তো আশা করি জানতে
পেরেছেন বারডেম হাসপাতালের সময়সূচি সম্পর্কে সম্পর্কে।
বারডেম হাসপাতালের ফোন নাম্বার
বা এপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আমাদের আর্টিকেলের এই
অংশে বারডেম হাসপাতালের ফোন নাম্বার দেওয়া হয়েছে যাতে আপনারা খুব সহজেই
কর্তৃপক্ষের নিকট যোগাযোগ করতে পারেন এবং আপনাদের প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জেনে নিতে
পারেন।
নাম্বারে ফোন করে যেকোনো তথ্য যেকোনো সময় জেনে নিতে পারবেন। তবে যেহেতু এটি একটি
ফোন নাম্বার সেহেতু সিম কলের তুলনায় এই নাম্বারে অতিরিক্ত টাকা খরচ হতে পারে।
তবে এছাড়া আপনি +৮৮-০২-৯৬-৬১-৫৫১৬০ এই নাম্বারেও যোগাযোগ করতে পারেন।
বারডেম হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম
খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং এই হাসপাতাল সম্পর্কে আলোচিত সকল তথ্যগুলো এবং
খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্য বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। যদিও এই হাসপাতালটি ডায়াবেটিস রোগীদের
বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তী সময়ে
ডায়াবেটিসের পাশাপাশি হরমোন, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি, কিডনি রোগ, চক্ষু রোগ, নাক,
কান ও গলা, মনোরোগ, অর্থোপেডিক্স, হৃদরোগ, পুষ্টিরোগ, নিউরোলজি, মেডিসিন এবং
সার্জারি বিষয়ে সুচিকিৎসা দেওয়া হয়।
- রেজিস্ট্রেশন করা
- নির্দিষ্ট ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ
- নির্দিষ্ট দিনে ডাক্তার দেখানো
- ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনাকে সর্বপ্রথম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তবে আপনি যদি একবার রেজিস্ট্রেশন করে
ফেলেন তাহলে পরবর্তীতে যতবারই ডাক্তার দেখান না কেন আপনাকে অতিরিক্ত ভাবে আর
কখনোই এই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। অর্থাৎ একজন রোগের জন্য শুধুমাত্র একবারই
রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
কয়েকটি ব্যতিক্রম ধর্মী নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। তো যাই হোক, এটি আপনি
বিভিন্নভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপনারা ৪টি পদ্ধতির
মধ্যে আপনাদের যেটি পছন্দ হবে সেটি অনুসরণ করতে পারেন।
যদি বারডেম হাসপাতালের সন্নিকটে অবস্থান করেন কিংবা আপনার পরিচিত যদি কেউ থাকে
তাহলে তার মাধ্যমে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে নির্দিষ্ট বিভাগের আন্ডারে
রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারে গিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। তবে
অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করার জন্য অবশ্যই আপনার কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের
প্রয়োজন হবে, যেমনঃ আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র, পূর্ববর্তী চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন
এবং নির্দিষ্ট রোগের পরীক্ষাকৃত ফলাফল।
এই হাসপাতালে এপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার বিশেষ একটি সুবিধা রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি
ঘরে বসেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন, যাকে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বলা হয়।
যেহেতু বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে এই হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করতে
আসে তাই রোগীদের সুবিধার্থে বারডেম হাসপাতালে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট এর
সুব্যবস্থা রয়েছে।
পারবেন। তো এজন্য আপনাকে চলে যেতে হবে একটি ওয়েবসাইটে, আর ওয়েবসাইটের লিংক আমি
এখানে দিয়ে দিচ্ছি আপনারা শুধুমাত্র এর উপরে ক্লিক করলেই ওই নির্দিষ্ট
ওয়েবসাইটে চলে যেতে পারবেন।
ওয়েবসাইট লিংকঃ
www. brbhospital.com
দিয়েছিলেন ওই নাম্বারে একটি নিশ্চিত করুন এসএমএস আসবে। এসএমএসের মধ্যে আপনার
এপয়েন্টমেন্ট এর তারিখ, সময়, আইডি এবং বিভাগ উল্লেখ করা থাকবে। তাই
অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুসারে আপনি যদি ডাক্তার দেখাতে চান তাহলে ওই নির্দিষ্ট দিনে
নির্দিষ্ট সময়ে বারডেম হাসপাতালে যেতে হবে।
বারডেম হাসপাতালের রিসিপশনে যারা রয়েছে আপনি চাইলে তাদের ফোন নাম্বার যোগাযোগ
করে কিংবা হাসপাতালে হট লাইন নাম্বার সংগ্রহ করে যোগাযোগ করতে পারেন। অনেক
ক্ষেত্রে সরাসরি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট
নেওয়ার উপায় না থাকলে আপনি এই মাধ্যমে খুব সহজেই ডাক্তার এপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ
করতে পারবেন।
বর্তমানে প্লে স্টোরে এমন অনেক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যেগুলোর
মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বারডেম হাসপাতাল সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নামে দামি
হাসপাতালের ডাক্তারদের এপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন। আবার এমন অনেক অ্যাপ্লিকেশন
রয়েছে যেগুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক
নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
অ্যাপোয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই
যায়। তবে বারডেম হাসপাতালে এন্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ডাক্তারের
এপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। তাই আপনারা চাইলে খুব সহজেই হাতে থাকা
স্মার্টফোন দিয়ে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে খুব সহজেই
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন।
রিসিপশনে গিয়ে আপনার রেজিস্ট্রেশন ফর্ম দেখাবেন এবং নির্দিষ্ট ডাক্তারের
এপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করবেন। আপনি যদি এটুকু কাজ পরিপূর্ণভাবে করতে পারেন তাহলে
বারডেম হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম গুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে
ফেলেছেন।
দিন ডাক্তার দেখাবেন তার সময়সূচি দিয়ে দেওয়া হবে। আপনি ওই নির্দিষ্ট দিনে
বারডেম হাসপাতালে আসবেন এবং ডাক্তার দেখাবেন।
এবং ডাক্তার আপনাকে নির্দিষ্ট সময় পরে আবার এপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করার জন্য
বলবে তখন আপনি রিসিপশনে আপনার পূর্ববর্তী প্রেসক্রিপশন প্রদান করে ফলো-আপ
অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করবেন।
বারডেম হাসপাতালের ডাক্তারদের তালিকা – বারডেম হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট
অনেক ডাক্তার রোগী দেখে থাকেন। এজন্য সব গুলো ডাক্তারের তালিকা দেওয়া সম্ভব
নয়, তবে যারা বিশেষজ্ঞ এবং স্পেশালিস্ট চিকিৎসক রয়েছে তাদের নাম সেক্টর
অনুসারে দেওয়া হল যাতে আপনারা খুব সহজেই তাদের থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন।
| বিভাগ | ডাক্তারের নাম |
| ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রাইনোলজি |
প্রফেসর ডা. একেএ আজাদ খান ডাঃ রুশদা সারমিন বিনতে রউফ ডা. মাহবুবুর রহমান প্রঃ ডাঃ এস এম আশরাফুজ্জামান ডা. মোহাম্মদ আলী খান প্রঃ ডাঃ জাফর এ লতিফ |
| গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি |
ডা. মোহাম্মদ নাসিমুল হক ডা. মির্জা হাসানুজ্জামান |
| অবস অ্যান্ড গাইনী |
ডা. সুরাইয়া বেগম ডা. মাহমুদা ইসলাম |
| চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ |
ডা. লুবনা জাহান ডা. নাজনীন সুলতানা |
| অর্থোপেডিকস বিভাগ |
ডা. হাবিবুর রহমান ডা. রাশেদুল ইসলাম |
| কার্ডিওলজি |
প্রফেসর ডা. আব্দুল মালেক ডা. মোহাম্মদ ফজলুর রহমান |
| চক্ষু |
ডা. এফ. এম. সাইফুল ইসলাম ডা. মুরাদুল ইসলাম খান |
| পেডিয়াট্রিকস |
ডা. শফিকুল ইসলাম ডা. রুহুল আমিন প্রঃ ডাঃ ফৌজিয়া মহসিন |
| নিউরোলজি |
ডা. সাইদুল হক ডা. ফাহিমুল কবির |
| নেফ্রোলজি |
প্রফেসর ডা. এ কে এম সালেহ ডা. মাহফুজুর রহমান |
অবশ্যই ডাক্তার দেখানোর নিয়ম জানতে হবে যা এই আর্টিকেলে আলোচিত হয়েছে। সকল
নিয়মগুলো আপনি যদি পরিপূর্ণরূপে পালন করতে পারেন তাহলে কোন ঝামেলা বা
দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যেই বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে
পারবেন।
বারডেম হাসপাতালের খরচ
হাসপাতালের খরচ সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। কারণ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হলে অবশ্যই
টাকা পয়সা খরচ করতে হবে। তবে অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় বারডেম হাসপাতালে
চিকিৎসা নিতে হলে আপনাকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।
থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। এই হাসপাতালে ১০৩ টি কেবিন আছে এবং ৭৪৭ টি ওয়ার্ড
ভিত্তিক কেবিন রয়েছে। জেনারেল ওয়ার্ডের কেবিন ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং ক্যাটাগরি ও
পরিবেশ অনুসারে কেবিন ভাড়ার রেঞ্জ ৪ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত
হয়ে থাকে।
ব্যক্তিগত অভিমত
পেরেছেন বারডেম হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম, ফোন নাম্বার এবং বারডেম
হাসপাতালের খরচ সম্পর্কে। এছাড়া আপনি যদি অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে জানতে চেয়ে
থাকেন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
প্রকাশিত হয়। আপনি কোন সম্পর্কে তথ্য জানতে চান সে সম্পর্কে আমাদের
হোয়াটসঅ্যাপে কিংবা কমেন্ট বক্সে জানালে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনাদের
জন্য একটি সুন্দর এবং তথ্যবহুল আর্টিকেল উপহার দিতে সক্ষম হব। তো আজকে এই
পর্যন্তই, আবার দেখা হবে অন্য কোন আর্টিকেলে সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন।
